Full width home advertisement

বাছাই খবর

প্রযুক্তি পরামর্শ

অ্যাপস

Post Page Advertisement [Top]

ভয়ঙ্কর সব স্বপ্ন দেখছেন? মারাত্মক ঝুঁকিতে আছেন আপনি!

ভয়ঙ্কর সব স্বপ্ন দেখছেন? মারাত্মক ঝুঁকিতে আছেন আপনি!
ঘুমের মধ্যে ভয়ংকর সব স্বপ্ন দেখেন অনেকেই। অনেকে আবার স্বপ্ন দেখার পর ঘুম থেকে জেগেও ওঠেন সেই স্বপ্নের রেশ নিয়ে। পরীক্ষার হলে বসে আছেন, ছাদের কিনারায় দাঁড়িয়ে আছেন বা সবগুলো দাঁত খুলে পড়ে গেল— এমন আজগুবী আর ভয়ঙ্কর সব স্বপ্ন মাঝেমধ্যে দেখলে সেটা হয়তো আমলে নেওয়ার মতো কিছু নয়। তবে হ্যাঁ, যদি আপনি প্রায়ই এমন স্বপ্ন দেখে থাকেন তাহলে স্বাস্থ্যের খানিকটা ঝুঁকি থেকেই যায়। শারীরিক নয়, মানসিক স্বাস্থ্যের কথাও বলা হচ্ছে এখানে। 
ঘুমের মধ্যে দুঃস্বপ্ন দেখে ধড়ফড় করে ঘুম থেকে উঠে যান? গোঙনি, হাত-পা ছোড়া- এই সমস্যাগুলো কি প্রায়ই হয়ে থাকে? আপনার মস্তিষ্ক নিয়ে তাহলে একটু বেশিই সচেতন হওয়া প্রয়োজন। আরইএম স্লিপ বিহেভিওরাল ডিজঅর্ডার বা আরবিডি’র কারণে মানুষ ঘুমের মধ্যে ভয়ানক স্বপ্ন দেখে এবং শারীরিক নানা কার্যকলাপ করে। সবচাইতে চিন্তার ব্যাপারটি হচ্ছে এই যে, এই সমস্যায় ভুক্তভোগীরা পারকিনসন্স ডিজিজ বা ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত হয় সবচাইতে বেশি। 
ইউনিভার্সিটি অব টরেন্টোর স্নায়ুবিশেষজ্ঞ জন পীভার জানান যে, এই ধরনের স্বপ্ন ও ঘুমের মধ্যে এমন অস্বাভাবিক ব্যবহার বড় কোনো সমস্যার প্রথম ধাপ। এটিই নির্দেশ করে যে, পরবর্তী সময়ে আরও বড় কোনো সমস্যা হতে পারে এবং প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে ফলাফল হিসেবে রোগী স্মৃতিহীনতায় ভুগে থাকেন। আরইএম ডিজঅর্ডার মূলত পারকিনসন্স ডিজিজের কারণের সবচাইতে বেশি পরিচিত। 
২০১৩ সালে পরপর মোট দুইটি গবেষণা হয় এ নিয়ে। আর তাতে পরিষ্কার জানা যায় যে, আরবিডি’তে ভুগছেন এমন ব্যক্তিরা পরবর্তী সময়ে স্নায়ুজনিত সমস্যায় বেশি পড়েন। তবে এই গবেষণাগুলোতে শুধু এই দুটো ব্যাপারের মধ্যে সম্পর্ক দেখানো হয়েছিল। তবে, ২০১৭ সালে করা আরেকটি ঘটনায় সমস্যার ফলাফলটাও হাতেনাতে দেখানো হয়। 
আপনার যদি এমন সমস্যা হয়ে থাকে, তাহলে দেরি না করে খুব দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। তাহলে চিকিৎসকেরা দ্রুত আপনার এই ঘুমের সমস্যার সাথে স্নায়ুজনিত কোনো সমস্যার যোগাযোগ আছে কিনা তা বলে দিতে পারবেন। চিকিৎসকেরা এই সমস্যার পরবর্তী ধাপ হিসেবে ওষুধ ব্যবহার করার কথা ভাবছেন। না, মস্তিষ্কের যে অংশ ইতোমধ্যেই নষ্ট হয়ে গেছে সেটাকে আবার ঠিকঠাক করে নেওয়া সম্ভব হবে না এভাবে। তবে, ওষুধ ব্যবহারের মাধ্যমে এই সমস্যা যেন আরও বৃদ্ধি না পায় সেটা নিশ্চিত করা সম্ভব। 
বিজ্ঞানী ও চিকিৎসকেরা তো চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে হ্যাঁ, এই কাজটি কেবল তাদের একার নয়। আপনার নিজের মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্য ঠিকঠাক রাখতে আপনিও অবসান রাখতে পারেন। আর সেজন্য করুন নিচের এই কাজগুলো-
১। বয়স যতই হোক না কেন, প্রতিনিয়ত কিছু না কিছু শিখতে থাকুন
২। কানে কোনো সমস্যা হলে শ্রুত সেবা নিন
৩। নিয়মিত রক্তচাপ মাপুন
৪। যেকোন পরিস্থিতিতেই কম ঘুমাবেন না
৫। ধূমপান থেকে বিরত থাকুন 
৬। আপনার উচ্চতার সাথে মানানসই ওজন ধরে রাখুন
৭। হতাশাকে এড়িয়ে না গিয়ে সঠিক চিকিৎসা নিন
৮। নিয়মিত শরীরচর্চা করুন
৯। মানুষের সাথে কথা বলুন
১০। রক্তে চিনির পরিমাণ স্বাভাবিক রাখুন
১১। স্বাস্থ্যসম্মত খাবার গ্রহণ করুন
১২। আপনার যদি বাইক থেকে থাকে, তাহলে অবশ্যই হেলমেট ব্যবহার করুন
১৩। সকালে এক কাপ কফি পান করুন
১৪। প্রতিদিন নতুন কিছু করুন এবং খেলাধুল করুন
১৫। বাগান তৈরি করুন, সুন্দর কোনো দৃশ্যের কথা ভাবুন
১৬। নতুন কোনো স্থানে ঘুরতে যান 
১৭। যোগব্যায়াম করুন
১৮। বাদ্যযন্ত্র বাজানো শিখুন
১৯। রাতের বেলা গোসল করুন
২০। প্রিয়জনের হাত ধরুন, সঙ্গ নিন
মস্তিষ্ক আপনার সমস্ত কাজ ও চিন্তায় সাড়া দেয়। তাই মস্তিষ্ককে উৎফুল্ল রাখুন। সুস্থতা এমনিতেই চলে আসবে। 
সূত্র : রিডার্স ডাইজেস্ট

No comments:

Post a Comment

Bottom Ad [Post Page]