Full width home advertisement

বাছাই খবর

প্রযুক্তি পরামর্শ

অ্যাপস

Post Page Advertisement [Top]

কোন প্রক্রিয়ায় ফেসবুক-ইউটিউবকে নিয়ন্ত্রণ করবে সরকার?

কোন প্রক্রিয়ায় ফেসবুক-ইউটিউবকে নিয়ন্ত্রণ করবে সরকার?
নির্বাচনকে ঘিরে অপপ্রচার, গুজব ও মিথ্যা তথ্য প্রতিরোধ করতে নভেম্বর থেকে ফেসবুক, ইউটিউব ও গুগল নিয়ন্ত্রণ করবে বলে ঘোষণা দিয়েছে সরকার। সরকার যদি মনে করে এইসব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নির্বাচনকে ঘিরে কোনো ধরনের আপত্তিকর কন্টেন্ট দেয়া হয়, তাহলে সরকার সেটি প্রতিরোধ করতে পারবে। বা চাইলে সরকার  তার বিরুদ্ধে ও ব্যবস্থা নিতে পারবে। 
তবে এর জন্য সরকারের পক্ষ থেকে কিছু প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে, যেগুলো প্রয়োগ করেই এ পদক্ষেপ নেয়া হবে। এসব প্রযুক্তির মধ্যে হার্ডওয়্যার বা সফটওয়্যার বা উভয়ই থাকতে পারে বলে জানিয়েছেন টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার। তিনি আরও জানান, খুব তাড়াতাড়িই এগুলোর প্রয়োগ করা হবে। 
নজরদারির প্রক্রিয়া     
এই ঘোষণা দেয়ার পরপরই অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে কিভাবে এই ফেসবুক, ইউটিউব বা গুগুলের ওপর নজরদারি করা যাবে? এ বিষয়ে আয়ারল্যান্ডে সোশ্যাল মিডিয়া গবেষক এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ইউনাইটেড হেলথ গ্রুপের তথ্য প্রযুক্তিবিদ ড. নাসিম মাহমুদ বিবিসি বাংলায় এক সাক্ষাৎকার দেন। 
তিনি জানান, বাংলাদেশ সরকার চাইলে দুইভাবে এসব কন্টেন্টের ওপর নজরদারি  করতে পারবে। প্রথমত, সরকার ফেসবুক বা গুগলের মতো বড় প্রতিষ্ঠানের কাছে তথ্য চাইতে পারে। কেননা অনেক দেশই তাদের প্রয়োজনে ফেসবুক বা গুগলের কাছে তথ্য চেয়ে থাকে।
দ্বিতীয়ত, পরোক্ষভাবে নজরদারি যেমন ফেসবুক নেটওয়ার্ককে মনিটর করা। এটি সরকার বিশেষজ্ঞ বা পারদর্শী কারও মাধ্যমে এ নজরদারি চালাতে পারবে। বর্তমানে এই নেটওয়ার্ক মনিটর করে এমন অনেক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এরা কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের হয়ে ফেসবুক বা গুগলের ওপর নজরদারি করতে পারে। এদের কাজই হলো যদি ক্ষতিকর কোনো শব্দ বা মন্তব্য সামাজিক মাধ্যমে চলে যায়, তখন তারা সরকারকে সে বিষয়ে দ্রুত জানাতে পারবে। 
কিন্তু তবে তথ্য প্রযুক্তিমন্ত্রীর বক্তব্যের সাথে দ্বিমত পোষণ করে ড. নাসিম মাহমুদ  বলেন, সুনির্দিষ্টভাবে এই ধরনের নজরদারি করার কোনো প্রযুক্তি নেই। কেননা কোথায়, কী ধরনের ভিডিও আপলোড হয়েছে, কারা এসবের পেছনে জড়িত, এটা জানা প্রায় অসম্ভব। 
তার মতে, এসব কাজ করতে এখন আর কোনো মানুষের প্রয়োজন হয় না। কারণ মানুষের কাজটি এখন একটি সফটওয়্যার দিয়েই করা সম্ভব। এখন সফটওয়্যারে যদি নির্দিষ্ট কোনো শব্দ বাছাই করে দেয়া হয়, তাহলে কেউ সেই শব্দ প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে সফটওয়্যারটি বিস্তারিত তথ্যসহ সরকারকে একটি ইমেইল পাঠিয়ে দেবে।  
এছাড়া সফটওয়্যারের মাধ্যমেই সংশ্লিষ্ট শব্দের সাথে নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তির নাম এসেছে কিনা এবং সেটা ইতিবাচক বা নেতিবাচক কিনা এ ধরনের কাজগুলো করা যায়। 
আর কেউ যদি অন্য কোনো দেশে বাস করেও এই ধরনের কাজ করে থাকে তাহলে একই সফটওয়্যারটি দিয়ে ওই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের পরিচয় ও খুঁজে পাওয়া সম্ভব। 
বিতর্কিত তথ্যগুলোর মুছে দেওয়া যাবে কী? 
তবে ওই সফটওয়্যারের কিছু সীমাবদ্ধতা ও রয়েছে বলে উল্লেখ করেন ড. নাসিম । তিনি বলেন,এই সফটওয়্যার ক্ষতিকর কন্টেন্ট সনাক্ত করতে পারলেও সেগুলোকে মুছে দিতে পারে না।
তিনি বলেন, ‘যেটা একবার পোস্ট করা হয়ে যায় সেটা চাইলেই কেউ ডিলিট করতে পারবে না। সেক্ষেত্রে পৃথিবীর অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশ সরকারের হাতে একটাই উপায় আছে। আর তা হলো সে ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্য চাইতে পারেন।’
মত প্রকাশের স্বাধীনতা কী খর্ব হবে? 
মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে খর্ব করা বা নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে কি না বিবিসির এমন প্রশ্নের জবাবে ড. নাসিম বলেন, ‘এটি অবশ্যই মানুষের মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে খর্ব করবে। 
কেননা আপনি যদি আগে থেকেই জানেন যে আপনি মুখ খুললে,আপনাকে খুঁজে বের করে জিজ্ঞেসাবাদ করা হবে তাহলে অনেকেই এই মতামত প্রকাশ করা থেকে বিরত থাকবে। 
ড. নাসিম বলেন,বর্তমানে অনেকেই মূলধারার গণমাধ্যমের চেয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কথা বলতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। এখন যদি এই সামাজিক মাধ্যমগুলো সরকার নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করে তাহলে সাধারণ মানুষের  কোনো বাক স্বাধীনতা থাকবে না। 

No comments:

Post a Comment

Bottom Ad [Post Page]