Full width home advertisement

বাছাই খবর

প্রযুক্তি পরামর্শ

অ্যাপস

Post Page Advertisement [Top]

নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর ব্যাখ্যা

নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর ব্যাখ্যা
কেমন হবে নির্বাচনকালীন সরকার- এ নিয়ে নিজের ভাবনা জানালেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলো না চাইলে একাদশ সংসদ নির্বাচনের সময় সরকারের আকার কমানো নাও হতে পারে বলে ইঙ্গিত দেন তিনি।
সোমবার (২২ অক্টোবর) বিকেল ৪টায় গণভবনে সৌদি আরবে চারদিনের সফর সম্পর্কে জানাতে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এমন ইঙ্গিত দেন।  সংবাদ সম্মেলনে প্রথমেই প্রধানমন্ত্রী সৌদি আরব সফর নিয়ে বিভিন্ন তথ্য উপস্থাপন করেন। 
মন্ত্রিসভা ছোট করে নির্বাচনকালীন সরকার এবার কখন হবে এবং তার ধরন কেমন হবে? দৈনিক আমাদের নতুন সময়ের সম্পাদক নাঈমুল ইসলাম খানের এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ছোট না করলে কোনো অসুবিধা আছে কি-না? 
প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনকালীন সরকারের আকার ছোট করা হলে উন্নয়ন প্রকল্পের বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত হতে পারে। আর তাছাড়া বর্তমান সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী সব দলের মন্ত্রী আছে।
মন্ত্রীসভা ছোট করে নির্বাচনকালীন সরকার এবার কখন হবে এবং তার ধরন কেমন হবে? দৈনিক আমাদের নতুন সময়ের সম্পাদক নাঈমুল ইসলাম খানের এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ছোট না করলে কোনো অসুবিধা আছে কি না।
নাঈমুল ইসলাম খান তখন বলেন, সংবিধান অনুযায়ী কোনো সমস্যা নেই।
প্রধানমন্ত্রী তখন বলেন, যুক্তরাজ্যের মতো যেসব দেশে সংসদীয় গণতন্ত্র আছে, কোথাও নির্বাচনের সময় মন্ত্রিসভায় পরিবর্তন আনা হয় না।
দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে মন্ত্রিসভা কেন পুনর্গঠন করা হয়েছিল, সে বিষয়টি ব্যাখ্যা করে শেখ হাসিনা বলেন, সে সময় বিরোধী দলে থাকা বিএনপি নির্বাচনে আসতে রাজি হচ্ছিল না বলে তখন তাদের নির্বাচনকালীন সরকারে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তারা যে মন্ত্রণালয় চায়, সেই মন্ত্রণালয় দেওয়া হবে বলেছিলাম। তারা যখন আসেনি, তখন বিভিন্ন দলগুলো নিয়ে ছোট মন্ত্রিসভা গঠন করা হয়েছিল।
আর এবারের পরিস্থিতি বর্ণনা করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা (দশম সংসদ নির্বাচনে) মেজরিটি পাওয়া সত্ত্বেও প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলো থেকে মন্ত্রিসভা গঠন করেছি। এই মন্ত্রিসভায় জনগণের প্রতিনিধি যারা, তারা আছেন। যেহেতু সব দলের প্রতিনিধি আছে, জানি না এটাকে ছোট করার দরকার আছে কি-না। কাটছাঁট করা হবে কি-না।
ব্যাখ্যা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মন্ত্রিসভা ছোট করা হলে একজনকে কয়েকটা মন্ত্রণালয় চালাতে হবে। সে ক্ষেত্রে কোনো কোনো উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ দু-তিন মাসের জন্য থমকে যেতে পারে। এ বিষয়গুলোও ভাবতে হবে।
তার পরও তিনি বলেন, যদি ডিমান্ড করে অপজিশন, তাহলে করব। আর না হলে কিছু করার নেই।
জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের দাবি ও লক্ষ্য নিয়ে বসতে সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দেয়া হবে বলে জানা গেছে, এ বিষয়ে আপনার মন্তব্য কী বা আলোচনায় বসবেন কি-না? এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা এখনও কারও কাছ থেকে কোনো চিঠি পায়নি, আগে পাই তারপর দেখা যাবে।
এ সময় তিনি বলেন, ড. কামাল কাদের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন সেটা আগে দেখতে হবে। যারা মানি লন্ডারিংয়ের সঙ্গে জড়িত, যারা ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার সঙ্গে জড়িত, যারা এতিমের অর্থ আত্মসাতের সঙ্গে জড়িত, যারা দণ্ডপ্রাপ্ত এবং সাজাপ্রাপ্ত আসামি তাদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন ড. কামাল।
যারা যুদ্ধাপরাধী তাদের সঙ্গে হাত মিলিয়েছে, যারা আগুন দিয়ে নিরীহ সাধারণ মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করেছে তারাই এই গ্রুপে রয়েছে। এরা সবাই এক হয়েছে তাদের রাজনীতিটা কোথায়? প্রশ্ন করেন প্রধানমন্ত্রী।
ড. কামাল প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুর্নীতির দায়ে যারা অভিযুক্ত হয়েছেন তাদের সঙ্গে নিয়ে এক হয়েছেন ড. কামাল। তিনি তো সংবিধান প্রণেতা, সংবিধান তৈরি করেছেন। তিনিই তো '৭২-এর সংবিধান মানেন না।
তিনি বলেন, আমি ক্ষমতায় থাকাকালে মানুষের উন্নয়নের জন্য কাজ করেছি, কাজ করছি, সারাজীবন কাজ করে যাব। বাংলাদেশের জনগণ যদি চাই তাহলে আবারও ক্ষমতায় আসব এবং জনগণ না চাইলে ক্ষমতায় আসব না। জনগণ যা চাইবে তাই হবে।
সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়নের ভূয়সী প্রশংসা করে সৌদি বাদশাহ আমাকে হাফ সৌদি বলেও আখ্যায়িত করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান বাংলাদেশে বিনিয়োগের আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছেন। এ সময় বাংলাদেশের সঙ্গে মোট পাঁচটি সহযোগিতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। এছাড়া যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশে আসার আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন। এই সফর বাংলাদেশের স্বার্থে সুদূরপ্রসারী ভূমিকা রাখবে বলে আশা করেন প্রধানমন্ত্রী।
গত মঙ্গলবার বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদের আমন্ত্রণে চার দিনের সফরে সৌদি আরবে যান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এই সফরে সৌদি বাদশাহ সালমান এবং যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে বৈঠক করেন শেখ হাসিনা। এ সময় বাংলাদেশের সঙ্গে মোট পাঁচটি সহযোগিতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। 
সফরের সময় রিয়াদে নিজস্ব জমিতে বাংলাদেশ দূতাবাস ভবনের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী হাসিনা।
সফরের দ্বিতীয় দিন বুধবার রিয়াদে সৌদি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে এক বৈঠকে বাংলাদেশে আরও বিনিয়োগের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। ওই দিন দুপুরে তিনি সৌদি বাদশাহ সালমানের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং রাজপ্রাসাদে মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন। বুধবার মদিনায় গিয়ে তিনি মসজিদে নববীতে এশার নামাজ পড়েন এবং মহানবী হজরত মোহাম্মদের (স.) রওজা জিয়ারত করেন।
মদিনা থেকে বৃহস্পতিবার জেদ্দায় পৌঁছে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের চ্যান্সেরি ভবনের ভিত্তিফলক উন্মোচন করেন। সেদিনই তিনি মক্কায় যান এবং ওমরাহ পালন করেন। সফর শেষে শুক্রবার রাতে দেশে ফেরেন শেখ হাসিনা।
সরকারের মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতারাও এই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম বাংলাদেশ টেলিভিশন গণভবন থেকে এই সংবাদ সম্মেলন সরাসরি সম্প্রচার করে। 

No comments:

Post a Comment

Bottom Ad [Post Page]