Full width home advertisement

বাছাই খবর

প্রযুক্তি পরামর্শ

অ্যাপস

Post Page Advertisement [Top]

বৃক্ষ মানব রোগ : ভাগ্য যাদের আজীবনই মন্দ!

বৃক্ষ মানব রোগ : ভাগ্য যাদের আজীবনই মন্দ!
ট্রি ম্যান সিনড্রোম বা বৃক্ষ মানব রোগ খুবই বিরল একটি বংশগত রোগ, যা নির্দিষ্ট কিছু মানব প্যাপিলোমা ভাইরাসের (Human Papillomavirus - HPV) সংক্রমণের কারণে হয়ে থাকে। যার ফলে ত্বকে ম্যালিগন্যান্ট টিউমার হয়। এই রোগকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় Epidermodysplasia verruciformis বলা হয়ে থাকে। ভাইরাসজনিত কারণ ছাড়াও সেল-মিডিয়েটেড ইমিউনিটির অপূর্ণতার কারণেও এই রোগ হওয়ার সম্ভাবণা বেড়ে যায়।
বৃক্ষ মানব রোগ ১৯২২ সালে লিভানডস্কি ও লুটস প্রথম সনাক্ত করেন। এ রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির সংখ্যা তেমন বেশি নয়। সারাবিশ্বে এ পর্যন্ত ৬০০ জন লোক এ রোগে আক্রান্ত হয়েছে বলে জানা যায়। তবে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ভাগ্য খুবই খারাপ বলতে হয়। যা এই লেখাটি পড়া শেষে সহজেই বুঝতে পারবেন।
লক্ষণ : 
ট্রি ম্যান উপসর্গ যে কোনো বয়সেই দেখা দিতে পারে। সাধারণত আক্রান্ত রোগীদের অর্ধেকের বয়স ৫-১১ বছরের মধ্যে জানা যায়। আবার এক চতুর্থাংশ আক্রান্ত হয় বয়ঃসন্ধিকালে। স্ত্রী-পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রেই এই রোগে ঝুঁকি একই।
এ রোগে আক্রান্ত হলে হাত, পা, মুখ ও কানে নিমোক্ত লক্ষণগুলো দেখা যায় – 
•    প্রথমে ত্বকের সমতল অংশ ফুলে উঠে ও অসমান হয়ে যায়
•    ছোট ফুলে ওঠা অংশকে প্যাপিউল বলা হয়
•    আঁচিল তৈরি হয়
•    যখন ফোলা অংশ ত্বকের দীর্ঘ অংশ জুড়ে সংক্রমণ ঘটায় তখন তাকে প্লেক বলা হয়। 
•    আঁশের মতো ছোট আকারের ফোসকার মতো গঠনও তৈরি হতে পারে।
•    অনেক সময় গাছের বাকল বা মূলের মতো গঠন তৈরি হয়। গাছের মূলের মতো গঠন তৈরি হওয়ায় একে ‘ট্রি ম্যান ডিডিজ’ বা ‘ট্রি ম্যান সিনড্রোম’ বা ‘বৃক্ষ মানব রোগ’ বলা হয়।
•    অনেক সময় শরীরে আঁচিলগুলো একই স্থানে জমাট আকারে তৈরি হয় কিংবা শতাধিক আঁচিল সমগ্র শরীরে ছড়ানো থাকে।
রোগ সনাক্তকরণ : 
যথাযথভাবে এই রোগটি সনাক্তকরণ করা কিছুটা কঠিনই। যদি আঁচিলের সাথে অস্বাভাবিক কোনো লক্ষণ দেখা যায় তবে দ্রুত কোনো চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের স্মরণাপন্ন হতে হবে। সেখানে চিকিৎসক ত্বক পরীক্ষা করে রোগ সনাক্ত করবেন।
বৃক্ষ মানব রোগাক্রান্ত দু’জন বাংলাদেশি : 
বৃক্ষ মানব রোগে আক্রান্ত হওয়া রোগীর যে রেকর্ড আছে তা খুবই কম। ২০০৭ সালে রোমানিয়া ও ইন্দোনেশিয়ায় দু’জন রোগীর রেকর্ড পাওয়া যায়। বাংলাদেশে ২০১৬ সালে আবুল বাজানদার নামের ২৫ বছর বয়সী এক যুবকের মাঝে এই রোগ ধরা পড়লে রোগটি ব্যাপক আলোচনায় চলে আসে। 
সরকারি খরচে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার চিকিৎসা চলতে থাকে। সেখানে তার হাতে জন্মানো গাছের শিকড়ের মতো অংশগুলো অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে আলাদা করে ফেলা হয়েছিল। তবে সম্প্রতি জানা যায়, তার শিকড়ের মতো অংশগুলো পুনরায় জন্মাচ্ছে।
আবুল বাজানদারের খোঁজ মেলার ঠিক এক বছর পর, ২০১৭ সালে দেশে ১০ বছর বয়সী এক বালিকার সন্ধান মেলে। বিবিসি নিউজের সংবাদ থেকে জানা যায়, সাহানা খাতুন নামের এই শিশুটি হচ্ছে প্রথম কোনো মেয়ে রোগী যে বৃক্ষ মানব রোগে আক্রান্ত হয়েছে।
চিকিৎসা : 
চিকিৎসার জন্য প্রথমে বিবেচনা করতে হবে কীভাবে উপসর্গকে দমিয়ে রাখা যায়। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে শিকড়ের ন্যায় গঠনগুলোকে অপসারণ করা গেলেও তা অস্থায়ী সমাধান মাত্র। কারণ এ রোগ কখনোই স্থায়ীভাবে ভাল হয় না। তাই বলা যায় এ রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ভাগ্য বড়ই খারাপ।
আঁচিলের মতো গঠনগুলোতে রাসায়নিক পদার্থ যেমন তরল নাইট্রোজেন ব্যবহার করে চিকিৎসা করা যেতে পারে। এছাড়াও স্যালিসাইলিক এসিডযুক্ত মলম, ক্রায়োথেরাপি ইত্যাদির প্রয়োগ করা যায়।
দুঃখজনক হলেও সত্য, এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের একটা পর্যায়ে গিয়ে ত্বকের ক্যানসার হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই এই রোগে আক্রান্ত রোগীদের সর্বদাই ত্বক বা চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শমত চলা উচিত। এছাড়াও চিকিৎসকের পরামর্শ মোতাবেক ভালমানের সানস্ক্রিন ক্রিম ব্যবহার করা উচিত। 
তথ্যসূত্র : ডার্মনেটজ.অর্গ, সিএনএন, এসিএসএইচ.অর্গ, বিবিসি, হেলথ লাইন ডট কম।

No comments:

Post a Comment

Bottom Ad [Post Page]